অণুকথনের স্রষ্টা কবি নাজমুল আহসান মুছলিমী আর নেই!
![]() |
| কবি নাজমুল আহসান মুছলিমী |
কবি নাজমুল আহসান মুছলিমী (ডাকনাম- শামীম) গত ১৮ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ইং তারিখে দুপুর ১:০০ টায় রাজধানীর শহীদ সোহ্রাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউ (ইন্টেন্সিভ কেয়ার ইউনিট) তে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ফুসফুসের কার্যকারিতা বন্ধ হয়ে পরপারে গমন করেন।
এর ১০ দিন পূর্বে ৮ই ফেব্রুয়ারি সকাল ৭:১৫ মিনিটের দিকে সকালের নাস্তা করার সময় তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তাঁর প্রচন্ড খিঁচুনি হয় এবং তিনি পিঠে তীব্র ব্যথা অনুভব করেন। তখন তাঁকে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করার পর পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় শহীদ সোহ্রাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। সেখানে ২ দিন স্বাভাবিক চিকিৎসা গ্রহণের পর ১০ তারিখ রাতের বেলা হঠাৎ তিনি প্রচন্ড শ্বাসকষ্ট অনুভব করেন। অক্সিজেন মাস্কের মাধ্যমেও তাঁর শ্বাসক্রিয়া স্বাভাবিক করা সম্ভব হচ্ছিল না। অবস্থার অবনতি হলে ১১ তারিখ সকাল ১১ টার দিকে তাঁকে আইসিইউতে নিয়ে যাওয়া হয় এবং তৎক্ষণাৎ লাইফ সাপোর্ট প্রদান করা হয়। তাঁর রক্তে কার্বন-ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ বৃদ্ধি পেতে থাকে এবং অক্সিজেনের পরিমাণ কমতে থাকে। এমতাবস্থায় ৭ দিন লাইফ সাপোর্টে (ভ্যান্টিলেশন) থাকার পর ১৮ তারিখ দুপুর ১:০০ টায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
জনাব নাজমুল আহসান মুছলিমী চার পঙ্ক্তির ক্ষুদ্রতম কবিতা অণুকথনের স্রষ্টা।
তিনি ১৯৬৩ খ্রিস্টাব্দের ৩রা জুন জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা জনাব আব্দুল মজিদ আহমাদ ও মাতা সৈয়দা লুৎফুন্নেছা। তাঁর পৈতৃক নিবাস সুনামগঞ্জ জেলার ধর্মপাশা উপজেলার রাধানগর (মুন্শি বাড়ি) গ্রামে। তবে তাঁর ছোট থেকে বড় হয়ে উঠা- মুছলিমী মঞ্জিল, টেংগাপাড়া, মোহনগঞ্জ পৌরসভা, নেত্রকোণা।
তিনি ১৯৭৮ সালে মোহনগঞ্জ পাইলট হাই স্কুল (বর্তমানে মোহনগঞ্জ পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়) থেকে এসএসসি ও ১৯৮০ সালে সিলেটের সরকারি মুরারিচাঁদ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করেন। ১৯৮৩ খ্রিস্টাব্দে ময়মনসিংহ সরকারি আনন্দমোহন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ থেকে অর্থনীতিতে অনার্স এবং তারপর ১৯৮৪ খ্রিস্টাব্দে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন।
ছাত্রজীবনে তিনি বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন। তিনি ময়মনসিংহ জেলা ছাত্র ইউনিয়নের দপ্তর সম্পাদক এবং আনন্দমোহন কলেজ কমিটির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। পরবর্তীতে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কমিটির সদস্য এবং হাজী মুহাম্মদ মুহসীন হল কমিটির সহ-সভাপতি ছিলেন। ছাত্রজীবনে তিনি কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) বিভিন্ন কর্মসূচিতেও অংশ নিতেন। তবে পরবর্তী জীবনে তিনি আর রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন না।
তিনি ছাত্রজীবন থেকেই টুকটাক লেখালেখি করতেন। পেশাগত জীবনে তিনি কিছুদিন মোহনগঞ্জ ডিগ্রী কলেজে (বর্তমানে মোহনগঞ্জ সরকারি কলেজ) খন্ডকালীন লেকচারার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এছাড়াও তিনি দিকদর্শন প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত (প্রথম প্রকাশ: আগস্ট, ২০০৭) জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি তৃতীয় বর্ষের পাঠ্য বাংলাদেশের অর্থনীতি বইয়ের সহলেখক ছিলেন।
জীবনের পরবর্তী সময়ে তিনি সম্পূর্ণভাবে লেখালিখিতেই মনোনিবেশ করেন। বিভিন্ন ধরনের ক্ষুদ্র কবিতার প্রতি তিনি অধিকতর আগ্রহ অনুভব করতেন। তিনি বিভিন্ন সময়ে ফেসবুকে হাইকু, তানকা ও লতিফা লিখতেন। এরই ধারাবাহিকতায় তিনি ২০১৮ সালে বাংলা সাহিত্যের ক্ষুদ্রতম কবিতাধারা ৫-৭-৫-৭ মাত্রাবিন্যাসে বিন্যস্ত চার পঙ্ক্তির অণুকথন প্রবর্তন করেন। এর মাধ্যমেই তিনি লেখক ও পাঠক মহলে পরিচিতি লাভ করেন। বিশিষ্টকবি নির্মলেন্দু গুণও অণুকথন কাব্যধারার প্রশংসা করেন এবং এরকম নিরীক্ষাধর্মী নতুন কাব্যধারা সৃষ্টির জন্য তাঁকে ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানান।
তিনি বাংলা ভাষার ছন্দরীতি অনুযায়ী মাত্রাবৃত্ত ছন্দ, অক্ষরবৃত্ত ছন্দ ও স্বরবৃত্ত ছন্দ/শ্বাসাঘাতে (সিলেবল) ৫-৭-৫-৭ মাত্রাবিন্যাসে রচিত “অণুকথন কাব্যগ্রন্থ”-এর প্রণেতা।
Written by Safwan Ibn Shahab

.jpg)










